৯ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, রবিবার,সকাল ১১:০৬

Kolahol News

বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির ঝুকিতে পানচাষীরাঃহতাশায় ভুগছে অনেকেই

প্রকাশিত: আগস্ট ২৫, ২০২০

  • শেয়ার করুন

বাগেরহাট প্রতিনিধি : পান উৎপাদনের জন্য বাগেরহাটের যাত্রাপুর-ফকিরহাট এলাকার নাম প্রসিদ্ধ।সুপারির পাশাপাশি পান চাষও এই এলাকার মানুষের জন্য আয়ের অন্যতম খাত।

কিন্তু এ বছর ভালো নেই পান চাষীরা। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, টানাবৃষ্টি, জলাবদ্ধতা এবং সবশেষে মুল্য কমে যাওয়ায় কপালে চিন্তার রেখা ফুটে উঠেছে চাষীদের। ইতিমধ্য ক্ষতির আশঙ্কায় মাথায় হাত উঠে গেছে অনেক অস্বচ্ছল পান চাষীর।

ধার-দেনা অথবা এনজিও থেকে লোড নিয়ে অনেকেই কিছু বেশি অায়ের জন্য জন্য পানের বরজ গড়ে তুলেছেন।

কিন্তু এ বছর ঋনের টাকা পরিশোধ করা তো দুরের কথা,পরিবারের রুটি রুজি যোগাড় করতেই হিমশিম খাচ্ছেন এই বর্গাচাষীরা।

উৎপাদন ভালো হলেও মুল্যবাজারে ধ্বস নেমেছে বলে পানচাষীদের অভিযোগ ।

এ বছর বাগেরহাট সদরের যাত্রাপুর সহ ফকিরহাট উপজেলায় প্রায় ৫৫০ হেক্টর জমিতে পানচাষ হয়েছে। প্রায় পাঁচ হাজারের অধিক চাষী পান বরজের সাথে যুক্ত রয়েছে।

পানের বরজই তাদের একমাত্র আয়ের উৎস।পুরো পরিবার টাই পান বরজের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল ।

এই পান চাষের সাথে জড়িত আরো বেশ কয়েক হাজার দিনমজুর মানুষের রুজি-রোজগার।

সিডর, আইলা,আম্পানের মত ঝড়, বন্যা বা অতিবৃষ্টি অনাবৃষ্টির মত নানা প্রতিকুলতার ক্ষয়ক্ষতি সামলে বারবার নতুন স্বপ্নে ঘুরে দাড়িয়েছে তারা।

এরই মধ্য উপকূল জুড়ে প্রায় সপ্তাহ ধরে শুরু হয়েছে টানা বৃষ্টি। জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে বাগেরহাটের অনেক অঞ্চল। জমে থাকা পানিতে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে পানের বরজ গুলিও।

এরই মধ্য নানা চড়াই উৎরাই পার হয়েও তারা ভালো ফলন পেয়েছে।কিন্তু দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে পানের দাম কমে যাওয়ায। বাজারে পানের দাম নেই বলে হতাশায় ভুগছে অনেকেই।

চাষীদের কষ্টের উৎপাদনে ভরপুর পানের বরজে এখন শুধুই চাপা কান্না বিরাজ করছে ।পানচাষীরা এখন রীতিমতো হতাশ।নিজেদের হাতে গাড়া পানের বরজই এখন তাদের গলায় কাটার মত বিধেছে।

গেলো বছর পানের ভালো ফলন হওয়ায় ও ভালো দাম পাওয়ায় চাষীরা অধিক আগ্রহেই ঝুঁকে পড়েছিলেন পান চাষে। কিন্তু এই সময়ে এসে পানের বরজ নিয়ে পড়ে গেছেন বিপাকে।ধার দেনা আর কিস্তির টাকার চাপে অন্ধকার দেখছেন চোখে। কিভাবে পাওনাদারের টাকা শোধ করবে সেই চিন্তায় অস্থির চাষীরা।

এ বিষয়ে পানচাষী মিলন কাজী জানান,ফলন বা উৎপাদন যতই ভালো হোক না কেন,দাম না থাকায় সংসার চালানো তো দুরের কথা খরচও উঠবেনা।বাঁচতে হলে বরজ গুটিয়ে অন্য কিছু করতে হবে।১০০ টাকা বিড়া দরের পান এখন বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকায়। লাভতো হচ্ছে ই না বরং খরচের টাকাও উঠছেনা।

পানের বাজারে ঘুরে জানা গেছে , এ বছর পানের আশাতীত উৎপাদন হয়েছে। গত বছর দাম বাড়তি যাওয়ায় পানে লাভ হয়েছে। কিন্তু দাম না থাকাতে এবার সবাই ক্ষতির আশঙ্কায়। এছাড়া চলতি বছর কৃষকরা অধিক পরিমাণে পানের বরজ গড়েছে। বাম্পার ফলন হলেও দাম পড়ে যাওয়ায় তাই লোকসান গুণতে হচ্ছে সবার।

যাত্রাপুর-ফকিরহাট থেকে নিয়মিত লাখ লাখ টাকার পান দেশের বিভিন্ন স্থানে চালান করে পাঠানো। পান রপ্তানি হয় বিদেশেও।

করোনার থাবা সেখানেও।কোটি টাকার ক্ষতি নিয়ে কোন রকমে টিকে আছে পানচাষীরা।

এ বিষয়ে ফকিরহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ নাছরুল মিল্লাত বললেন,বর্তমানে পানচাষীরা আছেন চতুর্মূখী সংকটে। রপ্তানিজনিত সমস্যা কোনো একক সমস্যা নয়, দেশের ভেতরেও পানের বাজারজাতকরনে বেগ পেতে হয়েছে। কিছুদিন ধরে বৃষ্টিজনিত কারনে যোগাযোগে বেশ সমস্যা গেছে, দেশের সব বাজারে সময়মত পান পৌছাতে পারেনি।চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশী,আপাতত ব্যাবহার কমে যাওয়া,বাজার ব্যাবস্থাপনায় ঘাটতিসহ নানা কারনে পানের দাম কম।তবে আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে পানের দাম উর্ধমূখী হতে থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন ।

  • শেয়ার করুন
বাংলাদেশে সকল নিউজ সবার আগে পেতে পেজটিতে লাইক দিন-